ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৫ , ২০ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

​ঘুষের টাকা ফেরত দিল পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৩-০৩-২০২৫ ০১:৫৮:৩৩ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৩-০৩-২০২৫ ০৪:২৮:০৪ অপরাহ্ন
​ঘুষের টাকা ফেরত দিল পুলিশ
হত্যা মামলার সন্দেহভাজন আসামিদের কাছ থেকে নেয়া ঘুষের টাকা ফেরত দিয়েছেন এক পুলিশ সদস্য। তিনি ঈশ্বরগঞ্জ থানার এসআই নজরুল ইসলাম। থানার ওসির নির্দেশে তিনি ভুক্তভোগীর বাবা মোনায়েম হোসেনকে ডেকে ঘুষের ওই টাকা ফেরত দেন। ৬০ হাজার টাকার মধ্যে ৫৯ হাজার ফেরত দিয়েছেন নজরুল। 

এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি একটি হত্যা মামলায় সন্দেহভাজন চারজনকে জিজ্ঞাসাবাদের নামে ঈশ্বরগঞ্জ থানায় ধরে এনে নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে মুক্তি পান চারজন। এ নিয়ে মঙ্গলবার (১১ মার্চ) বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে টনক নড়ে থানা-পুলিশের।

জানা যায়, গত বছরের ০১ অক্টোবর ভোর রাতে জাটিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে কর্মরত নৈশপ্রহরী আরমানকে হত্যা করা হয়। নিহত মো. আরমান স্থানীয় বাসিন্দা মো. লোকমান হেকিমের ছেলে। ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর সে জাটিয়া উচ্চ বিদ‍্যালয়ে নৈশপ্রহরী হিসেবে যোগদান করে কর্মরত অবস্থায় নিহত হন। আরমান হত্যার বিষয়টি নিয়ে ঘটনার দিন রাতেই মা শামছুন নাহার ওরফে ঝরনা বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। ওই দিনেই আরমান হত্যার প্রধান আসামি ইউনিয়ন পরিষদের চৌকিদার মাসুদ রানা আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করা হয়। মামলার আর কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

তবে আরমান হত্যায় গত ১২ ফেব্রুয়ারি থানার ওসি ওবায়দুর রহমানের নির্দেশনায় এসআই নজরুল ইসলাম এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরিফ বিল্লাহ (৪৬), রিফাতুল ইসলাম (২৩), বাবুল মিয়া (২১) ও রোমান মিয়া (২০) নামের চারজনকে থানায় নিয়ে যায়। জিজ্ঞাসাবাদের নামে তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ উঠে। এক পর্যায়ে আটকদের পরিবারের কাছে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। অন্যথায় আরমান হত্যা মামলায় তাদের ফাঁসিয়ে দেয়ার ভয় দেখানো হয়। আটক তরুণ বাবুলের বাবা মোনায়েম হোসেন হত্যা মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলামের সঙ্গে ৬০ হাজার টাকা রফাদফা করে পরিশোধ করেন। পরে আটক চারজনকে পরদিন রাতে মুক্তি দেয়া হয় বলে দাবি ভুক্তভোগীদের পরিবারের সদস্যদের।

টাকা ফেরত দেয়ার প্রসঙ্গে ভুক্তভোগী বাবুলের বাবা মোনায়েম হোসেন বলেন, এসআই নজরুল মোবাইলে কল দিয়ে আমাকে বাজারে আসতে বলেন। বুধবার (১২ মার্চ) বাজারে এসে দেখা করলে হাতে ৫৯ হাজার হাজার টাকা ধরিয়ে দেয়। টাকা লেনদেনের বিষয়টি যেন কারো কাছে স্বীকার না করি এমন নির্দেশ দেন।

এ প্রসঙ্গে ঈশ্বরগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম বলেন, ভাই মোবাইলে না, এ বিষয়ে সরাসরি কথা হবে।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ওসি মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়টি আমি জানি না। হলে হতেও পারে।


বাংলাস্কুপ/প্রতিনিধি/এসকে


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স


এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ